মোংলা কাস্টমসে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ, কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

প্রিন্ট নিউজ

খান আশিকুজ্জামান,মোংলা (বাগেরহাট)

বাগেরহাটের মোংলা কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, অনিয়ম ও ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন ব্যবসায়ীরা। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে মোংলা কাস্টমস হাউসের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। পরে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে কাস্টমস কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেন ব্যবসায়ীরা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, অনৈতিক সুবিধা আদায় এবং নানা অজুহাতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মোংলা বন্দরে আসা বিদেশি জাহাজের ক্যাপ্টেনদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ডলার, হুইস্কি ও সিগারেট আদায় করেন ওই কর্মকর্তা। পরে এসব সামগ্রী অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। এ ছাড়া জাহাজের আগমনসংক্রান্ত তথ্য ও ক্লিয়ারেন্স কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইজিএম শাখায় অনিয়ম, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং বিভিন্ন অজুহাতে অনৈতিক সুবিধা দাবির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীরা আরও বলেন, বৈধ পণ্য খালাস করতে আসা ব্যবসায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও শিপ চ্যান্ডলারদের হয়রানি করা হচ্ছে। নতুন ভেন্ডার লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া এবং অনৈতিক সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, এসব অভিযোগের কারণে মোংলা বন্দরে ব্যবসায়িক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন ব্যবসায়ীরা বন্দর ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হলে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাই অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অপসারণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভে বক্তব্য দেন শিপিং ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ, নুরউদ্দিন টুটুল, কামাল হোসেন, মো. শামিম, মো. ইউসুফ, মো. সেলিম, মো. মামুন ভুইয়া, মো. সুমন মল্লিক, মো. আল-আমিন, মো. বেল্লাল হোসেন, মো. মহসিন পাটোয়ারী, মো. সোহাগ ও মো. রাজ বাপ্পা। বক্তারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার অপসারণের দাবি জানান।

পরে ব্যবসায়ীরা মোংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. গিয়াস কামালের সঙ্গে দেখা করে তাঁর কাছে স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মোংলা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মো. গিয়াস কামাল অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।