খান আশিকুজ্জামান
মোংলা।
উপজেলা প্রতিনিধি, মোংলা(বাগেরহাট)
বাগেরহাটের মোংলায় আলোচিত মানবিক উদ্যোগ ‘এক বেলার মেহমানদারী’র কার্যক্রম, অর্থের হিসাব ও সাম্প্রতিক অভিযোগ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উদ্যোগটির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত একদল স্বেচ্ছাসেবক। একই সঙ্গে উদ্যোগটি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠক সুজন, শুভ ও নুর নবী। কোনো পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রকৃত তথ্য, হিসাব-নিকাশ ও প্রমাণ যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে মোংলা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে স্বেচ্ছাসেবকেরা বলেন, ‘এক বেলার মেহমানদারী’ কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির মাধ্যম নয়; বরং অসহায় ও দুস্থ মানুষের মুখে এক বেলা খাবার তুলে দেওয়ার একটি মানবিক উদ্যোগ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, অজিয়ার শেখ, সজিবুল হাসান ও শরিফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে উদ্যোগটির যাত্রা শুরু হয়। পরে সজিবুল হাসানের মাধ্যমে আরও কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক যুক্ত হন। শুরুতে উদ্যোক্তা ও দাতারা নিজেরাই অর্থের জোগান দিতেন। পরে বাইরের দাতারা যুক্ত হলে অনুদান ও ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছ রাখতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলা হয়। সেখানে অনুদানের পরিমাণ জানানো এবং খাতায় লিখিত হিসাব সংরক্ষণ করা হতো বলে দাবি করেন তাঁরা।
স্বেচ্ছাসেবকদের ভাষ্য, বাজার ব্যবস্থাপনা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ে মতপার্থক্যের সৃষ্টি হলে গত ১২ অক্টোবর দাতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের উপস্থিতিতে সুজনের কাছে থাকা ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬ টাকা অজিয়ার শেখের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাঁদের দাবি, বর্তমানে ওই অর্থ তাঁর মনোনীত এক ব্যক্তির কাছে আমানত হিসেবে রাখা হয়েছে। আয়োজনের প্রয়োজনীয় মালামালও অজিয়ার শেখের বাসায় সংরক্ষিত রয়েছে।
অজিয়ার শেখের শ্রমের মূল্যায়নে প্রতিটি আয়োজনে ৫০০ টাকা সম্মানী দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল বলে জানান স্বেচ্ছাসেবকেরা। তবে অজিয়ার শেখ ওই অর্থ নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাঁর দোকানের কর্মচারী সুমনকে ৩০০ টাকা দেওয়ার কথা বলেন বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
অনুদান সংগ্রহে সুজনের বিকাশ নম্বর সর্বসম্মতিক্রমে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং ফেসবুক পেজ ও আইডি একক কোনো ব্যক্তি পরিচালনা করতেন না বলেও দাবি করেন তাঁরা। অজিয়ার শেখকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। তাঁদের দাবি, গত কয়েক কার্যদিবসে সুজনের সঙ্গে অজিয়ার শেখের কোনো যোগাযোগ হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবকেরা জানান, ‘এক বেলার মেহমানদারী’র পরিচালনা নিয়ে তাঁদের কোনো দাবি বা আপত্তি নেই। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ অজিয়ার রহমান উদ্যোগটি পরিচালনা করবেন। মানবিক কার্যক্রমটির মূল লক্ষ্য অক্ষুণ্ন রেখে উদ্যোগটি দীর্ঘদিন চালু রাখার প্রত্যাশা জানান তাঁরা।
সবশেষে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কোনো পক্ষের বক্তব্য বা লেখালেখির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রকৃত তথ্য, হিসাব-নিকাশ ও প্রমাণ যাচাই করে মতামত প্রকাশের আহ্বান জানান স্বেচ্ছাসেবকেরা।