চুরির দায় স্বীকার করে সালিশনামায় স্বাক্ষর,পরে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই চাঁদাবাজির অভিযোগ!

উপজেলা প্রতিনিধি, মোংলা(বাগেরহাট)
বাগেরহাটের মোংলায় একাধিক বাড়িতে চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, স্থানীয় সালিশে চুরির দায় স্বীকার করে একটি সাদা কাগজে সালিশনামায় স্বাক্ষর করেন অভিযুক্ত কাওসার। গত ১৫ অক্টোবর ওই সালিশনামা লেখা হয় বলে তাঁরা জানান। তবে ক্ষতিপূরণের টাকা ও মালামাল ফেরত না দিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে থানায় চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কাওসার এর মা। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অভিযোগটি তদন্ত করছে পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোড়াবাঁশতলা এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে কাওসারের বিরুদ্ধে একাধিক বাড়িতে চুরির অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী মো. রমজান খান বলেন, তাঁর ঘরের সিঁধ কেটে নগদ পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি মুঠোফোন চুরি করা হয়। পরে স্থানীয় সালিশে কাওসার চুরির দায় স্বীকার করে মালামাল ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেন বলে দাবি করেন তিনি। রমজানের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে একটি সাদা কাগজে সালিশনামা লেখা হয় এবং তাতে কাওসার চুরির দায় স্বীকার করে স্বাক্ষর করেন। তবে এখনো টাকা ও মালামাল ফেরত পাননি তিনি। তাঁর অভিযোগ, উল্টো তাঁদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
একই এলাকার খালেক মিয়ার দাবি, তাঁর বাড়িতে দুই দফা চুরির ঘটনা ঘটে। প্রথমবার বাড়ি থেকে ৩৬ হাজার টাকা চুরি হয়। দ্বিতীয়বার চুরি করতে এসে কাওসার হাতেনাতে ধরা পড়েন বলে দাবি তাঁর। পরে স্থানীয় সালিশে টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়। ওই সময় কাওসারের মা লিখিত কাগজে স্বাক্ষর করেন বলেও জানান খালেক মিয়া। তবে এখনো টাকা ফেরত পাননি তিনি।
খালেক মিয়া বলেন, “আমরা আমাদের পাওনা টাকা ফেরত চাই। কিন্তু টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।”
একই এলাকার আঁখি ইসলাম নামের এক নারী জানান, রাতে তাঁর ঘর থেকে নগদ টাকা, মুঠোফোন ও এটিএম কার্ডসহ একটি ব্যাগ চুরি হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তাঁকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে মুঠোফোনটি ফিরে পান।
সুন্দরবন ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হাওলাদার বলেন, চুরির ঘটনা নিয়ে স্থানীয় সালিশে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অঙ্গীকারের পরও ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্টো চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠায় এলাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ বা দলীয় কোন্দল রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানান তিনি।
তবে অভিযুক্ত কাওসার চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “একটি লিখিত অভিযোগ থানায় জমা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগীরা চুরি হওয়া টাকা ও মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে করা চাঁদাবাজির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁদের দাবি, সালিশনামাসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

