মোঃ ফারুক আহাম্মেদ, স্টাফ রিপোর্টার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল রবিবার ২৫ শে অক্টোবর সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।সরাইল সদর হাসপাতালে অসুস্থ এক রোগীর সংকটমুহূর্তে দ্রুত চিকিৎসাসেবা দিয়ে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শেখর কুমার মণ্ডল। তাঁর আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিজ্ঞতা রোগীর স্বজনদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।
গত তিন-চার দিন ধরে আমার ছোট ভাই জাবের উচ্চমাত্রার জ্বরে ভুগছিল। বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু আজ রোববার হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। প্রচণ্ড অস্থিরতা অনুভব করায় দেরি না করে তাকে সরাইল সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
নিয়ম অনুযায়ী টিকিট কেটে ১২৩ নম্বর কক্ষে ডা. শেখর কুমার মণ্ডলের কাছে নেওয়া হয় জাবেরকে। রোগীর শারীরিক ইতিহাস শোনার পর তিনি সিবিসি (CBC), রক্তে শর্করা (RBS) ও ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ দেন। পরে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে রক্তের নমুনা দেওয়া হয়। সেখান থেকে জানানো হয়, রিপোর্ট পেতে প্রায় দেড় ঘণ্টা লাগবে।
কিন্তু রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করার মধ্যেই জাবেরের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে। বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা ও প্রচণ্ড অস্থিরতায় সে দাঁড়িয়ে থাকার শক্তিও হারিয়ে ফেলছিল। একপর্যায়ে সে ছোট ভাইকে বলে, তাকে যেন বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়।
এ অবস্থায় রোগীর ছোট ভাই দিশেহারা হয়ে দ্রুত তাকে আবার চিকিৎসকের কক্ষে নিয়ে যান। রোগীর অবস্থা জানানো হলে ডা. শেখর কুমার মণ্ডল তাকে চেয়ারে বসিয়ে দ্রুত পালস পরীক্ষা করেন। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই দুজন স্টাফকে সঙ্গে নিয়ে স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামসহ ফিরে আসেন তিনি। দ্রুত রোগীর হাতে ক্যানোলা করা হয়। চিকিৎসক বারবার জাবেরের পালস পরীক্ষা করেন এবং তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন। স্যালাইন দেওয়ার পর ধীরে ধীরে জাবেরের অস্থিরতা কমতে শুরু করে এবং সে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে।
পরে চিকিৎসক রোগীর স্বজনদের জানান, ওই মুহূর্তে জাবেরের পালস ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছিল না। বিষয়টি বুঝতে পেরেই তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা শুরু করতে আরও কয়েক মিনিট দেরি হলে রোগীর অবস্থা আরও গুরুতর হতে পারত।
চিকিৎসা চলাকালে তিনি বারবার রোগীকে জিজ্ঞেস করছিলেন, এখন কেমন লাগছে, অস্থিরতা কমেছে কি না এবং দাঁড়ালে কেমন অনুভব হচ্ছে। চিকিৎসকের এই নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও আন্তরিকতা আমাদের পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করেছে।
হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে মানুষের নানা অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ থাকতে পারে। তবে এর মধ্যেও দায়িত্বশীল ও মানবিক চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টা মানুষের মনে আশার আলো জোগায়।
একজন চিকিৎসকের দায়িত্ব শুধু ওষুধ লিখে দেওয়া নয়; রোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন বুঝে সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়াও চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরাইল সদর হাসপাতালে আজকের এই অভিজ্ঞতা আমাদের কাছে সেই দায়িত্ববোধের একটি স্মরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।
ডা. শেখর কুমার মণ্ডলের প্রতি আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
মানুষের সেবায় নিয়োজিত এমন আন্তরিক চিকিৎসকদের ভালো কাজের স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তাঁদের উৎসাহিত করা, সম্মান জানানো এবং মানবিক উদ্যোগগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরা আমাদের সবার দায়িত্ব।
ভালো কাজের প্রশংসা হোক। মানবিক চিকিৎসকদের কথা ছড়িয়ে পড়ুক মানুষের মাঝে।