জামালপুর প্রতিনিধিঃ- এস আলম
সোমবার-২০ জুলাই-২০২৬
বাবার পঙ্গুত্ব আর সংসারের চরম টানাটানির মাঝেও পড়ালেখা চালিয়ে নিজের একটি ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন ছিল রিক্তা আক্তারের। অন্ধকারের মাঝে আলোর প্রদীপ জ্বালাতে চেয়েছিলেন প্রতিবন্ধী হেলাল উদ্দিনের এই মেয়ে। কিন্তু সেই আলো ছড়ানোর আগেই কলেজ কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতায় রিক্তার স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুর সদর উপজেলার তুলসীপুর ডিগ্রি কলেজে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রিক্তা আক্তার কৈডোলা গ্রামের শাহবাজপুর এলাকার বাসিন্দা।
জানা গেছে, ডিগ্রি ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে গত ১২ জুন রিক্তা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে পরীক্ষার ফি বাবদ ৩,০০০ টাকা জমা দেন। ফরম পূরণ ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তিনি কয়েকবার কলেজে যোগাযোগ করেন। কিন্তু পরীক্ষার দিন ১৮ জুলাই, ২০২৬ ইসলামি ইতিহাস বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, বোর্ড থেকে তার নামে কোনো প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড) ইস্যু করা হয়নি।
অশ্রুসজল চোখে রিক্তা জানান, “আমি নিজে কলেজে এসে ফরম পূরণের জন্য টাকা জমা দিয়েছিলাম। আমার কোনো বকেয়া ছিল না। এরপর তিনবার কলেজে এসে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছিল। অথচ পরীক্ষার দিন জানতে পারলাম আমার নামই বোর্ডে পাঠানো হয়নি। আমার একটি বছর নষ্ট হয়ে গেল। আমার পঙ্গু বাবার এত কষ্টের জবাব এখন কে দেবে?”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তুলসীপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম লিচু নিজের দায় স্বীকার করে বলেন, “আবেদন করা সম্ভব হয়নি, এটা আমাদের ভুল হয়েছে। তার জমাকৃত পরীক্ষার ফি টাকা ফেরত দেওয়া হবে।”
সূত্র মতে, কলেজের নৈশ প্রহরী রাসেল রানার উপস্থিতিতে রিক্তার ফরম পূরণের টাকা জমা নেওয়া হলেও তা যথাযথভাবে বোর্ডে পৌঁছানো হয়নি। কলেজ কর্তৃপক্ষের এই দায়সারা মন্তব্যে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, একজন অসহায় দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীর জীবনের মূল্যের চেয়ে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা কি বড়?
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়ে শুধু টাকা ফেরত দিলেই কি দায় শেষ হয়? একজন শিক্ষার্থীকে তিনবার কলেজে ঘোরানোর পরও তাকে সঠিক তথ্য না দেওয়া প্রশাসনিক চরম ব্যর্থতা।”
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রিক্তার শিক্ষাজীবন রক্ষায় জেলা শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
